মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১১

গুগলের বিরুদ্ধে এন্টিট্রাস্ট শুনানি আগামী বুধবার; ব্যাপক প্রস্তুতি

(প্রিয় টেক) - ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনের সবচে বেশি মার্কেট শেয়ার ধারনকারী গুগল কোনও রকমের অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, সেটা দেখার জন্য আগামী বুধবার কম্পানীর নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক স্মিডট আমেরিকার সিনেটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এবং এর জন্য গুগল সাংঘাতিক রকমের প্রস্তুতি নিয়েছে।

কম্পানীর নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক স্মিডট সিনেটের মুখোমুখি হচ্ছেন
গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর গুগল ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে লবি করার জন্য নিয়োগ দিয়েছে। গুগল ভয় পাচ্ছে, তাদের উপর কোনরকম এন্টিট্রাষ্ট একশন চলে আসে কি না। তাহলে গুগল বর্তমানে যেভাবে ব্যবসা করছে,
সেটাকে পরিবর্তন করতে হবে, অনেক বেশি নিয়মনীতির ভেতর আসতে হবে।
এই শুনানীর মূল কারন হলো প্রতিদ্বন্দী মাইক্রোসফট। তারা দাবি করেছে যে, গুগল সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছে না। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৯৮ সালে মাইক্রোসফটের প্রধান বিল গেটস-কেও এমন একটি শুনানীর মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যখানে সিনেট তাকে তুলোধুনো করে ফেলেছিল। এবং মাইক্রোসফটের উপর এন্টিট্রাস্ট একশন এনেছিল এই বলে যে, মাইক্রোসফট তাদের অপারেটিং সিস্টেমের প্রভাবের কারণে অন্যান্য পণ্য প্রসারে অধিকতর সুবিধা নিচ্ছে যা প্রতিযোগিতার জন্য সঠিক নয়। তখন এমনও আশা করা হচ্ছিল যে, সরকার মাইক্রোসফটকে ভেঙ্গে কয়েক টুকরো করে দেবে। শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফট সেই শাস্তি থেকে মুক্তি পায়।
বর্তমানে গুগল সার্চ ইঞ্জিন বাজারে আমেরিকাতে দুই-তৃতীয়াংশ বাজার দখল করে আছে; এবং ইউরোপের দেশগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ বাজার দখল করেছে।
এখন মাইক্রোসফটের অভিযোগ হলো, গুগল তার সার্চ ইঞ্জিনের একচ্ছত্র আধিপত্য কাজে লাগিয়ে অন্যান্য পণ্যে (যেমন বিসনেজ লিস্টিং, ম্যাপস, প্রডাক্ট কমপ্যারিজন সার্ভিস ইত্যাদি) অসম প্রতিযোগিতা তৈরী করেছে। তবে গুগল বলছে, আমরা গ্রাহকের আগ্রহকেই মেটানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্যকে বাজারে নিয়ে আসছি।
নতুন ১৩টি লবিং প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়ার পর গুগলের বর্তমানে মোট ২৫টি লবিং প্রতিষ্ঠান এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন সিনেটর এবং কনগ্রেসম্যানদের সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখছেন। গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ এবং সার্গেই ব্রিন-ও কয়েকবার ওয়াশিংটন ভ্রমণ করেছেন।
সিনেটরদেরকে প্রভাবিত করার জন্য গুগল বিজ্ঞাপনেরও আশ্রয় নিয়েছে। তারা খবরের কাগজে এবং টেলিভিশনে আমেরিকার বিভিন্ন ইস্যুতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এবং এই বিজ্ঞাপনগুলো পুরো আমেরিকাতে প্রচার না করে, যে সব এলাকায় সিনেটররা বাস করেন, সেই সব এলাকায় প্রচার করা হচ্ছে।
গুগলকে কতটা ফ্রাই করা হবে সেটা দেখার জন্য সবাই এখন তাকিয়ে আছে বুধবারের মিটিং-এর দিকে। গত মাসেই একটি অনৈতিক ওষুধ কম্পানীর বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য গুগলকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মুল্যবাদ মন্তব্য প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ।